লেখক:Ariyan vai
ওকে দেখে আমার কেমন জানি সন্দেহ হয়,,, ও আর আগের মত আমার সাথে খারাপ বিহেভ করে না,,,, সব সময় ভালোভাবেই কথা বলে,,,,,
বৃষ্টি: বাবা আমাকে আর আপনাকে বিয়েতে যেতে বলতেছে,,, কি করবেন,,,
আমি: কিসের বিয়ে,,, আর কার বিয়ে ,, কিছুই তো জানি না,,,
বৃষ্টি: আপনার খালাতো বোনের বিয়ে,,,, আপনাকে বলেনি বাবা,,,
আমি: ও সিট,,, আমার তো মনেই ছিলনা,,,, কালতো শুক্রবার,,,, কালকেই তো বিয়ে মনে হয়,,,,
বৃষ্টি: হুম ঠিক,,, মনে আছে তাহলে আপনার,,, কি করবেন যাবেন না,,,
আমি: অবশ্যই যাবো,,, না গেলে আমাকে মেরে ফেলবে ও,,,,, কতদিন দেখা হয়না,,,,,,ওর সাথে,,,।।
বৃষ্টি: ঠিক আছে তাহলে ব্যাগ গুছিয়ে নেই আমি,,,,আর বাবাকে ও বলে আসি,,,
আমি: হুম,,,, আর তানহা কে ও রেডি হতে বলো,,,,
বৃষ্টি বাইরে চলে গেল,,, ওকে দেখে খুব খুশি খুশি লাগছে,,,, তাহলে কি বৃষ্টি আমাকে সত্যি ভালবেসে ফেলেছে নাকি,,,,
এগারোটার দিকে বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,,,, তানহা যাচ্ছে আমাদের সাথে,,,,, বৃষ্টি শাড়ি পরেছে,,, দেখতে একদম পরীর মত লাগছিল,,, চোখটা যেন আটকে ছিল,,,, এরকম অবস্থায় দেখলে,,, কোন পুরুষ ই ঠিক থাকতে পারবেনা,,,, কিন্তু আমি নিজেকে কন্ট্রোল করেগ রাখলাম,,,,,
বৃষ্টি ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল,,,, আর মুচকি মুচকি হাসছিল,,,,
দুপুর পর পৌঁছে গেলাম,,,, ভেতরে যেতেই,,, সবাই আসলো,,, মানে আমার খালা খালু আর আত্মীয়-স্বজন,,,, অনেকদিন হলো আসি না,,, আপন বলতে এরাই আছে শুধু,,,,, সবাইকে সালাম করলাম,,, আমার সাথে বৃষ্টি ও সালাম করল,,,, আমি তো ভেবেছিলাম,,, কি যে করে,,,,
ওদের সাথে কিছু কথা বলে,,, সামিয়ার রুমের দিকে গেলাম,,,,, বৃষ্টিও আছে সাথে,,,,,,
সামিয়া আমাকে দেখেই বৃষ্টি সামনে জড়িয়ে ধরল,,,, ও আসলে এরকম ই,,,, কলেজে থাকতে এরকম করত,,,,, খুব ফ্রী ছিলাম আমরা,,,,,,
সামিয়া: শয়তান,,, খুব বড়লোক হয়ে গেছিস না ,,, ফোন দিলে ধরিস না,,, আবার আসতে বললাম কবে,,, আর আসলি কবে,,,,
আমি: আরে থাম থাম,,, ধীরে ধীরে বল,,,,, এক এক করে সব বলতেছি,,,,
সামিয়া: হুম বল,,, তাড়াতাড়ি,,,,,
হঠাৎ সামিয়ার নজর,,, বৃষ্টির দিকে গেল,,,,, আসলে সামিয়া বৃষ্টিকে চেনে না,,, ও বিয়ের সময় বিদেশে ছিল,,, তাই আসতে পারি, নি,,,
সামিয়া: এটা কেরে,,, চিনলাম না তো,,,.
আমি: তা চিনবি কেন,,, এটা তোর ভাবি,,, মানে আমার বউ,,,
সামিয়া: আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম,,, তুই না বিয়ে করেছিস,,,, ভাই তোর বউটা কিন্তু হেব্বি,,,,, সেই,,,,
সামিয়ার কথায়,,,, কিছুটা লজ্জা পেয়েছে মনে হয় বৃষ্টি,,,
আমি: চুপ কর,,,, বেশি কথা বলতেছিস কেন,,,,,, তোর হাজবেন্ড কেমন দেখতে রে,,, শুনলাম ওগানডা থেকে আনছিস বলে,,,,
সামিয়া: 


তোর চেয়ে সুন্দর আছে,,,,,
আমি: আচ্ছা কালকেই দেখব নি,,,,,
আদনান তুই একটু বাইরে যা,,, তোর বউয়ের সাথে কিছু কথা আছে,,,,,
আমি: কি কথা,,, আমার সামনেই বল,,, বাইরে যেতে হবে কেন,,,,
সামিয়া: তোর সামনে বলা যাবে না,,,, তুই বাহিরে যা,,,,,
বাড়ি চলে আসলাম,,,, সামিয়ার কথা কেমন জানি সন্দেহ লাগছিল,,,,,, কি এমন কথা বলবে,,, যেটা আমি জানিনা,,,,
বাইরে গিয়ে বসে রইলাম,,,, এখানে গল্প করার মতো কেউ নেই,,,
একটু পর,,, বৃষ্টি বাইরে আসলো,,, কিন্তু ওকে দেখে,,, কেমন রাগী রাগী মনে হচ্ছে,,,,
আমি: কি বলল তোমাকে,,,
বৃষ্টি: সেটা বিষয় না,,, আপনি আগে ঘরে আসেন,,, কথা আছে আপনার সাথে,,,
আমি: কি কথা,,, এখানেই বলো,,,,,
বৃষ্টি: বললাম তো,,, ঘরে আসেন,,,,, কয়বার বলা লাগে,,,,,
খুব রেগে আছে মনে হচ্ছে,,, এই প্রথম বৃষ্টিকে রাগতে দেখলাম,,,, রাগলে ওকে সুন্দর ই লাগে,,,,
ওকে নিয়ে একটা ঘরে গেলাম,,,,
আমি: বল কি হয়েছে,,, কিসের জন্য ঘরে আনলে,,,,
বৃষ্টি: সামিয়া আপু আমাকে কি বললো এসব,,,, আপনি নাকি,,,ছি বলতেই পারতেছি না,,,,
আমি: কি,,,,, কি বলছে,,, ওর কথা তুমি বিশ্বাস করছো,,,,ও এক নাম্বার শয়তান,,,,,,
বৃষ্টি: শয়তান আপু না,,, শয়তান আপনে,,, আপনার সাথে আমার কোন কথা নাই যান,,, আমি চলে যাবো,,,,,
আমি: পাগল হলে নাকি,,, কে কি বলছে,,, তার জন্য তুমি আমাকে কথা শোনাচ্ছ,,,, আচ্ছা তুমি আমাকে ভালোবাসো নি তো,,,,
কথাটা শুনে,,, বৃষ্টির হাসিমুখটা এমনিতেই মলিন হয়ে গেল,,,, কিছুই বললো না,,,, রুম থেকে বেরিয়ে গেল,,,,,
কি হলো,,, এতে মাইন্ড করার কি আছে,,, এই মেয়েদের একটা দোষ,,,কখন কি বলে বোঝা দায়,,,,,
আমিও বাহিরে চলে আসলাম,,,,, বাইরে গিয়ে তো অবাক হয়ে গেলাম,,, দেখলাম ফারিয়া ও এসেছে,,,,, আসার কথাই,,,, কারণ ও স্বামী আর প্রিয় বান্ধবী ছিল,,, কলেজ লাইফে,,,,,, ফারিয়ার কাছে গেলাম,,,,, কথা বলছিল কার সাথে যেন,,, আমাকে দেখে ফোনটা কেটে দিলো,,,,
আমি: তুমি এখানে,,, আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না,,,,,
ফারিয়া: অবিশ্বাসের কি আছে,,, এটাতো স্বাভাবিক,, আমি তো আসতেই পারি,,,,
আমি: সেটা ঠিক,,,, তোমার ছেলে কোথায়,,, ওকে তো দেখালে না,,,
ফারিয়া: একটু আগেই তো ছিল,,, কোথায় যে গেল,,,,
কিছুক্ষণ কথা বলে,,, বৃষ্টিকে খুঁজতে গেলাম,,,, কি বলছে,,, তার জন্য আমার উপর রেগে আছে,,,,,
কিছুক্ষণ পর খুঁজে পেলাম,,, দেখলাম তানহার সাথে কি যেন নিয়ে হাসাহাসি করতেছে,,,,,
আমি: এত হাসাহাসি কিসের,,,
বৃষ্টি: তানহা তোমার ভাইকে বল,,, সেটা তার না জানলেও হবে,,,
আমি: তানহাকে বলছ কেন,,, আমাকে বললেই তো পারো,,,,
বৃষ্টি: আমি ওটা বলার প্রয়োজন মনে করছি না,,, আপনি এখন যান তো,,, আমরা কাজ করছি একটু,,,
আমি: ওকে যাচ্ছি,,,, একটু পর রুমে এসো কথা আছে,,,,
কথাটা শুনে কিছু বললো না,,, মনে হচ্ছে আমার কথার কোন মূল্যই নেই,,,
রুমে একা একা থাকতে ভালো লাগছে না,,, তাই আমার বাইরে গেলাম,, ফারিয়ার রুমের দিকে গেলাম,,, রুমটা আমার রুমের পাশেই,,, তখন রুমে যেতে দেখলাম,,,,
হঠাৎ করেই রুমে ঢুকে পড়ায়,,, ফারিয়া খুব চমকে উঠেছে,,,, হয়তো আমার ও এভাবে আসা উচিত হয়নি,,,,
আমি: সরি সরি,,, হঠাৎ করে ঢুকে পড়লাম,,,,,
ফারিয়া: না ঠিক আছে,,,,, কিন্তু আসার সময় তো অনুমতি নিতে হয়,,, এটা ভুলে গেছেন নাকি,,,,
আমি: ভুলিনি,,,, তোমাকে দেখে আমার মাথা কিছু ঠিক থাকে না,,,, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়,,,
ফারিয়া মুচকি হেসে বললো,,,
ফারিয়া: কি এলোমেলো হয়ে যায়,,,,,
আমি: সবকিছুই ,,, তোমাকে দেখলে সেই আগের ভালোবাসার কথা মনে পড়ে যায়,,,, মন চায় আবার সেই ভালোবাসা ফিরে পাই,,,,
ফারিয়া: তাই,,, তাহলে দেরি করতেছেন কেন,,,, ইচ্ছা করলেই কিন্তু,,, আমরা সেই আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারি,,,,
চলবে



No comments:
Post a Comment