Post Top Ad

Post Top Ad

মাফিয়া বউ

।।মাফিয়া বউ।। পর্ব:০৪


লেখকঃঃআরিয়ান
পাশে তাকিয়ে দেখি,,, বৃষ্টি ও নাই,,,, তাড়াতাড়ি বাইরে চলে গেলাম,,,, কিন্তু বাইরে গিয়েও কাউকে দেখতে পেলাম না,,, পুলিশকে দেখলাম জেগেই আছে,,,, কিন্তু বৃষ্টি কোথায় গেল তাহলে,,,, অনেকক্ষণ খুঁজেও পেলাম না,,, আমার রুমে চলে আসলাম,,, কিন্তু রুমে এসে lঅবাক হয়ে গেলাম,,, দেখলাম বৃষ্টি শুয়ে আছে,,,,
আমি: কোথায় গিয়েছিলে,,,,
বৃষ্টি: বাথরুমে গিয়েছিলাম,,, কেন কি হয়েছে
আমি: না কিছু হয়নি,,,, ঘুমিয়ে পড়ো,,,
বৃষ্টি: হুম আপনিও ঘুমান,,,,(আরেকটু হলেই ধরা পরে যেতাম,,, আসার সময় পেল না,,, এই রাতেও কি দেখা করতে হবে,,,, যদি ধরা পরে যেতাম,,, কি হতো তাহলে,,,,,)
সকালে আগেই ঘুম ভেঙে গেল,,,, ঘুম থেকে ওঠা দেখলাম,,,, বৃষ্টি আমার বুকের উপর শুয়ে আছে,,,, ওকে দেখতে একদম শিশু বাচ্চাদের মত লাগছে,,, মনে চাইছে ওর অগোছালো চুল গুলো,,, হাত দিয়ে শড়িয়ে দেই,,,, যা ভাবার তাই কাজ,,, চুলগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে গেলাম,,,, কিন্তু আমার হাতের ছোঁয়ায়,,, ঘুমটা ভেঙে গেল বৃষ্টির,,,,
আমার বুকের উপর থাকায়,,, মনে হয় একটু লজ্জা পেয়েছে,,,,, মুচকি মুচকি হেসে ওয়াস রুমে চলে গেল,,,,,
আমি শুয়েই থাকলাম,,,,
একটু পর বৃষ্টি বাইরে আসলো,,,,,,
বৃষ্টি: যান ফ্রেশ হয়ে আসেন,,,,, আমি বাইরে গিয়ে খাবার বানাচ্ছি,,,
আমি: ওকে,,,, তানহাকে একটু ঘুম থেকে জাগিয়ে দিও,,,,
বৃষ্টি: ঠিক আছে,,,,
সকালে ব্রেকফাস্ট করে,,,, তানহা কে স্কুলে দিতে গেলাম,,,, কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথে ফারিয়ার সাথে দেখা হয়ে গেল,,, ওকে দেখে বুকে কেমন জানি ধুকপুকুনি বেড়ে গেল,,,,,
(ফারিয়া হল আমার এক্স গার্লফ্রেন্ড,,, তবে আমাদের মধ্যে কোন রিলেশন হয়েছিল না,,,,, আমি ভালবাসতাম ওকে,,, কিন্তু ও ভালবাসতে কিনা জানিনা,,,তবে প্রতিদিন আমার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করতো,,, আমাকে খাবার বানিয়ে খাওয়াতো,,,, এক অজানা ঝড়ে,,, দুজনে দুই রাস্তায় চলে এসেছি,,,, ও আমার মত,,, ওর ছেলেকে স্কুলে দিতে আসছে,,,,,)
আমি: তানহা তুমি ক্লাসে যাও,,,, আর ছুটির সময় নিয়ে যাবো এসে,,,,,
তানহা: ওকে ভাইয়া,,,, আমি তাহলে যাই,,,
ধীরে ধীরে ফারিয়ার দিকে এগোতে লাগলাম,,,, আমি ওর থেকে যাচ্ছি হয়তো ওটা ও বুঝতে পেরেছে,,,, ওর ছেলেকেও ক্লাসে পাঠিয়ে দিলো,,,,,
আমি: তুমি ফারিয়া না,,,
ফারিয়া: হুম আমি ফারিয়া,,,, কেন চিনতে পারতেছেন না নাকি আমাকে,,,
আমি: চিনবো না কেন,,, এত স্মৃতি কি সহজে মুছে ফেলা যাবে,,,,,
ফারিয়া: কোন স্মৃতি,,,, আমাদের মধ্যে কি কোনো স্মৃতি ছিল,,, নাকি সবটাই অভিনয় ছিল,,,
আমি: সেটা হয়তো জানিনা,,, তবে তোমাকে খুব মিস করতাম,,,, তোমার শাসন গুলোকে ও না খুব মিস করতাম,,,, কখনো ভাবি নি,,, আমাদের মতো এতটা দূরত্ব বেড়ে যাবে,,,
ফারিয়া: কেন পুরনো কথা বলতেছেন,,, এসব বলে কি কোনো লাভ আছে,,, এখন আপনি আপনার মত,,, আমি আমার মত,,,
আমি: সেটা তো জানি,,, যাইহোক,,, স্বামী-সংসার নিয়ে কেমন কাটছে দিন,,,
ফারিয়া: অনেক সুখেই আছি,,, আমার স্বামী কিন্তু তোমার মত প্রতারক না,,,, সামান্য কিছু টাকার জন্য,,,,,,
আমি: প্লিজ ওই কথাটা বলো না,,,, সেদিন আমার কোন দোষ ছিলনা,,,
ফারিয়া: আমিতো আপনাকে দোষ দিচ্ছিনা,,,, শুনলাম বিয়ে করেছেন নাকি,,,
আমি: হুম বিয়ে করেছি,,,,, কোথায় থেকে শুনলে
ফারিয়া: এসব কথা এমনি শোনা যায়,,,, এত বড় মানুষ আপনি,,,, আপনার কথা তো সবার মুখেই শোনা যায় ,,,,,,
আমি: তাই নাকি,,,, আচ্ছা তোমার হাজব্যান্ড কি করে,,,
কথাটা শুনে নিমেষেই ফারিয়ার মুখটা কালো হয়ে গেল,,,
আমি: কি হলো,,,, ভুল কিছু কি বললাম,,,,
ফারিয়া: না‌ না,,, আপনি ভুল বলেননি,,,, আজ এক বছর হল আমার স্বামী মারা গেছে,,,,
কথাটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল,,,, এর সাথে এরকম হওয়া লাগলো,,,, মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে,,,,
আমি:ওহহ সরি,,,,, কিভাবে মারা গেছে,,,,
ফারিয়া: সেটা আমি জানিনা,,, লাস টা পর্যন্ত খুঁজে পাইনি,,,,
আমি: কি বলো,,, এতো কিছু হয়ে গেছে,,, আর আমি একটা কথাও জানিনা,,,,,, একবার তো জানাতে পারতে,,,
ফারিয়া: জানানোর সময় হয়নি,,, তাছাড়া আপনাকে জানিয়ে কিলাভ হত,,, আমার স্বামীকে কি ফিরে পেতাম,,,,
আমি: তা হয়তো পেতে না,,, কিন্তু মৃত্যুর কারনটা তো জানা যেত,,,,
ফারিয়া: আমি আর ওসব জানতে চাই না,,,, অনেক কষ্টে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি,,, এসব মনে করে আর নিজেকে কষ্ট দিতে চাইনা,,,,
আমি: আচ্ছা,,,, যদি কিছু না মনে করো,,, একটা কথা বলি,,,,
ফারিয়া:হুম বলেন,,,,
আমি: আমাকে তোমার বাসায় একটু নিয়ে যাবে,,,
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলল,,,
ফারিয়া: হুম চলেন,,,,, কিন্তু আপনার হাতে ব্যান্ডেজ কেন,,,,,
আমি: ওহহ,,, আর বোলো না,,, কালকে হঠাৎ কে যেন গুলি করছিল,,,, অল্পের জন্য বেঁচে গেছি,,,,
ফারিয়া: 😱😱😱😱😱 এখনো আগের মতোই আছেন ,,, একটুও বদলান‌ নি না,,,
আমি: আরে না,,, আমি আর সেই আগের আদনান নেই,,, আগের আদনান আর এখনকার আদনানের মধ্যে অনেক পার্থক্য,,,,।
ফারিয়া: সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি,,,, আচ্ছা চলেন তাহলে যাওয়া যাক,,,,
আমি: হুম চলো,,,,
তারপর ফারিয়ার সাথে ওর বাড়িতে গেলাম,,,,, বাড়িটা খুব একটা বড় না,,, দুইটা রুম,,,, ভেতরে গিয়ে বসলাম,,,, ফারিয়া কোথায় যেন গেলো,,,, একটু পর হাতে চা নিয়ে আসলো,,,,
ফারিয়া: এই নেন চা খান,,,,,
আমি : হুম দাও,,, তোমার হাতের তা অনেকদিন হলো খাই না,,,,
চায়ের কাপে চুমুক দিলাম,,,, সে আগের মতোই চায়ে স্বাদ টা রয়েছে,,, একটু ও পাল্টায় নি,,,,,
বৃষ্টি: চা টা কেমন লাগলো,,,,
আমি: সে আগের মতোই,, একটুও বদলায়নি,,,.
ফারিয়া: কিন্তু মানুষ কত বদলে গেছে তাই না,,,,,
আমি: আবার এসব কথা বলতেছ,,,, আচ্ছা আজ তাহলে আসি,,, অন্য একদিন আসবো আবার,,,
ফারিয়া: ওকে,,, এর পরের বার ভাবিকে নিয়ে আসবেন কিন্তু,,,,
আমি: হুম,,,,
ফারিয়ার বাড়ি থেকে চলে আসলাম,,, আজকে ফারিয়াকে দেখে খুব খারাপ লাগতেছে,, আজ ওর সাথে আমার থাকার কথা ছিল,,, কিন্তু,,, কি থেকে কি হয়ে গেল,,,, সব কিছু অজানা রয়ে গেলো এখনো,,,,
বাড়িতে চলে আসলাম,,,, দেখলাম বৃষ্টি টেলিভিশন দেখতেছে,,,,, আমাকে দেখে এগিয়ে আসলো আমার দিকে,,,,
বৃষ্টি: কোথায় ছিলেন এতক্ষণ,,, বাইরে যে রোদ,,, এমনিতেই অসুস্থ মানুষ,,,,
আমি: তানহাকে নামিয়ে দিয়ে,,, একটা বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম,,,, তাই দেরি হয়ে গেছে,,,
বৃষ্টি: আজকে যেটা হলো,,,, আপনি অসুস্থ না,,, এখন কি বাইরে ঘোরাফেরা করা উচিত আপনার,,,
আমি: আচ্ছা বাবা ভুল হয়ে গেছে,,,,, আর এরকম হবে না,,,, পুলিশ কোথায় ওদের তো দেখতেছি না ,,,
বৃষ্টি: থানায় গেছে ,,, বড় স্যার নাকি ডাকছে ওদের,,,,
আমি: ওহহ,,, কই আমাকে তো কিছু বলে গেল না,,,,,
বৃষ্টি: আপনি তো ছিলেন না,,,, তাই আমাকে বলে গেছে,,,,
আমি: ঠিক আছে,,, যখন আসে,,,, তখন আমার কাছে পাঠিয়ে দিও,,, আমি রুমে গেলাম,,,,
বৃষ্টি: হুম,,,,
দেখতে দেখতে সাত দিন কেটে গেল,,, এখন হাতের ব্যান্ডেজ টা খুলে নিয়েছি,,,,, তবে এই কয়দিন,,,, বৃষ্টির মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে,,, র্ওকে দেখে এখন আমার কেমন জানি সন্দেহ হয়,,,,
চলবে,,,

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad