#Md_Mojnu_Islam
এদিকে নেহা মিমের মারা যাওয়ার কথা শুনে কিছুক্ষনের জন্য বাক শক্তি হারিয়ে ফেলে,,,
নেহাকে শান্তনা দেওয়ার মত ভাষা মজনুর জানা নেই, এই ফাঁকে হাসানকে একটা টেক্সট করে হাসপাতালে আসতে বলে।
কিছুক্ষন পর, হাসপাতালের একটা নির্দিষ্ট রুমে বেডের চারপাশে বসে কাঁদছে সবাই।
হাসান ও বসে কাদছে সেখানে, হাসান যেনো পাগলের মতো হয়ে গেছে তার একটাই কথা তার জন্য একটা মেয়ে এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দিল।
এই অল্প সময়ের মধ্যে হাসান বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করছে,
সে কোন ভাবেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না,সে শুধু একটা কথাই বলছে,আমার জন্য মিম আজ আত্মহত্যা করলো।
কিন্তু ডাক্তারের রিপোর্ট আসার পর যেনো সবাই আরো নিস্তব্ধ হয়ে গেলো,কারন রিপোর্টে যা লিখা ছিলো তার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলো না।
রিপোর্টে যা লিখা ছিলো তা হলো,মিম কোনভাবেই প্রেগন্যান্ট ছিলোনা কিন্তু তার ব্লাড ক্যান্সার ছিলো,যা মিম কাউকেই বলেনি।
আর একটা কথা লিখা ছিলো তা হলো মিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেনি,বরং মিমের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত ঔষধের সাইড ইফেক্টের কারণে।
মিম একেবারে অনেক গুলো ঔষধ খেয়ে ফেলছিলো, যেটার সাথে যেটা খাওয়ার দরকার সেটা না খেয়ে আরেকটার সাথে খেয়ে ফেলছিলো।
যার কারণে মিমের মৃত্যু হয়েছে, রিপোর্টটা দেখার পর হাসান কিছুটা শান্তি পায়,কিন্তু সে কিছুতেই মিমকে হারানোর কষ্ট সয্য করতে পারছে না।
তারপর মিমের লাশ বাসায় আনা হয়,এবং দাফন এর কাজ শেষ করা হয়।এদিকে নেহা মিমের একটা পারসোনাল ডায়েরি খুজে পায়।
যেখানে মিমের অতীত জীবনের অনেক কিছুই লেখা ছিলো।
তার মধ্যে শেষ পাতার লেখাটা ছিলো অবাক হওয়ার মত।তো চলুন দেখি কি লেখা ছিলো শেষ পাতায়।
~~~
আজ আমি অনেক খুশী, অবশ্য এটা খুশি নাকি দুঃখ বলতে পারব না,কারণ আজ আমি হাসানের জীবন থেকে একেবারে চলে আসতে পেরেছি।
কিছুক্ষন আগেই জানতে পারলাম আমার ব্লাড ক্যান্সার,আর এখন একেবারে শেষ সময়,চাইলে ও আর ভালো হওয়া সম্ভব নয়।
তাই আমি একটা নাটক করি হাসানের সাথে, আমি জানতাম,হাসানকে যদি আমি আমার প্রেগন্যান্টের কথা বলি,
তাহলেই ও ঘৃণায় আমার জীবন থেকে চলে যাবে।আর আমি ও চাইনা আমার এই সল্পমাএার জীবনের সাথে হাসানের সুন্দর জীবনটা জড়াতে।
তাই আমি হাসানে আজ আমার প্রেগন্যান্ট এর কথা বলি,আর হাসান ও আমার জীবন থেকে সড়ে যায়,যেটা আমি চেয়েছিলাম সেটায় হয়ছে।
কিন্তু একটা কথা,সবার মত আমারো স্বপ্ন ছিল হাসানে নিয়ে ভালোবাসার ঘর বাধতে,
কিন্তু সেটা আর হল না,হয়তোবা আল্লাহ এটায় চায়,আর সবার ভালোবাসায় তো পূর্ণতা পায় না,
আমি ও না হয় তাদের দলে আমার নাম লিখলাম।
ভালোবাসলেই যে পেতে হবে তার তো কোন মানে নেই,আমি নাহয় দূর থেকেই ওকে ভালোবেসে যাবো।
ডায়েরি টা পরে কাঁদতে থাকে নেহা, আর শুধু নেহা নয়,সবাই কাঁদছে ডায়েরি টা পড়ে।
হয়তোবা মিম ঠিকই বলছে,সবার ভালোবাসা তো পূর্ণতা পায় না,
এদেশে মিমের মতো আরো অনেক ছেলে মেয়ে আছে, যারা জানে তাদের ভালোবাসা কখনই পূর্ণতা পাবেনা,তবুও তারা পাগলের মত ভালোবাসে।
হয়তোবা কেউ পাগল ভেবে অবহেলা করে, আর যারা ভালোবাসতে জানে তারা সবসময় পাবেনা যেনে ও গভীর ভাবে ভালোবাসে।
হ্যা এটাই ভালোবাসার নিয়ম।
(সমাপ্ত)



No comments:
Post a Comment