লেখকঃ শ্রাবন রায়
সকালে শিমলার ডাকে ঘুম ভাংল। মোবাইলে তাকিয়ে দেখি ৮ টা বেজে গেছে। ফ্রেশ হয়ে নিলাম। শিমলা চা এনে দিল।
আমি সেটা নিয়ে ছাদে চলে গেলাম।
চা খাচ্ছিলাম আর শিমলার কথা ভাবতেছিলাম। নিচে তাকিয়ে দেখলাম
মালপত্র নেওয়ার গাড়ি চলে এসেছে।
আমি তাড়াতাড়ি কথা বলতে চলে গেলাম।
কি কি জিনিস পত্র নিব তার লিষ্ট তাদের দিয়ে দিলাম।
এরপর আমি জান্নাত আপুকে রেডি হতে বললাম।
আমার রুমে গিয়ে...
আমি- আপনি আপনার সব কিছু গুছিয়ে নিন।
শিমলা-......
আমি- কি হল কথা বলেন না কেন..?(রাগি ভাবে)
শিমলা- প্লিজ তুমি আমায় তারিয়ে দিও না।
আমি- যা বলছি তাই করেন। এই বলে আমি চলে গেলাম। আমার সব কিছু আগেই গুছিয়ে রেখেছি।
জান্নাত আপু রেডি। আমি শিমলাকে ডাক দিলাম।
(আপনারা ভাবছেন শিমলা এত অপমান সহ্য কেন করতেছে?? আসলে সে অনেক বড় ভুল করেছে। এটাই তার শাস্থি হিসেবে সে মেনে নিয়েছে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই।)
কিছু সময় পরে মিসেস এল। মুখে কোন হাসি নেই। চুল এলোমেলো।
কিন্তু খুব কিউট দেখাচ্ছিল। ইচ্ছে করতেছিল গাল দুটো ধরে টান দেই। কিন্তু কন্ট্রোল করে নিলাম।
আমি- সবাই চল আমার সাথে।
জান্নাত- হুম চল ভাইয়া। ভাবি তুমিও আসো।
শিমলা- সবাই মানে..???(অবাক হয়ে)
আমি- একদম চুপ। (ঝারি দিয়ে)
শিমলা- চুপ...
জান্নাত- ভাইয়া তুই ভাবির সাথে এমন করে কথা বলিস কেন???
আমি- আপনি চুপ করে চলেন প্লিজ।
জান্নাত- হুম।।।
এরপর তিনজন মিলে একটা গারিতে উঠলাম।
জান্নাত অনেক এক্সাইটেড। কারন নতুন বাসা তো তাই।
আর শিমলার মনে তো অনেক প্রশ্ন।
আমি কিছু বলব না। সারপ্রাইজ দিব।
বাসার সামনে এসে।
জান্নাত- ভাইয়া অনেক বড় বাড়ি।
আমি- হুম। আমার আপ্পির জন্যই তো নিলাম।
জান্নাত- হুহ। আমি জানি তুই আমায় বোকা বানাচ্ছিস। ভাবির জন্য এই বাসা।
আমি- হুম এবার চল।
শিমলা- চুপ করে আছে। কারন জানে কিছু বললে তো আমি আছিই। হিহিহিহি। (বউ তো এমনি হওয়া উচিত। স্বামী যা বলবে তাই করবে।😉😉 মেয়েরা শিমলাকে দেখে শিখো 😂😂)
জান্নাত আগে গিয়ে তার পছন্দসই একটা রুম দখল করে নিল। পাগলি একটা।
আমি- কি হল আপনাকে কি নিমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে যেতে হবে??
শিমলা- চুপ করে হাটা দিল রুমের ভিতরে।
আমি- হাহাহাহা ম্যাম এটা তো কেবল শুরু।(খেলা এখনো বাকি আছে😊😊)
আমি ভিতরে গিয়ে বললাম---
আমি- আপনারা যেটা পছন্দ সেটায় আমার সহ আপনারা মালপত্র নিয়ে গুছিয়ে রাখুন।
শিমলা- কিন্তু সেটার জন্য তো লোক আছে আমার। আমি ফোন দিব এখনি চলে আসবে।
আমি- ঠাসসসসসস ঠাসসসসস 😊😊। আমি যেটা বলছি সেটা করেন।
শিমলা- 😭😭😭মুখ বুজে কাদতেছে।
আমি- একদিম চুপ। আপু যেন কিছু টের না পায়।
শিমলা- হুম।
আমি- এরপর রান্নাটা করে ফেলবেন।
শিমলা- কিন্তু আ....
আমি- 😠😠😠
শিমলা- 😯😯😯
(কিছু কিছু সময় চোখ কথা বলে। মুখে বলতে হয় না।)
আমি ফ্রেশ হতে গেলাম।
এসে দেখি রুমটা বেশ সুন্দর করে গুছানো হয়েছে। বাহ বেশ ভালোই তো পারে ম্যাম।
আমি- এখানেও কিছু ভুল দরে বকে দিলাম।
হিহিহিহি।
এদিকে আপ্পি তো তার রুম টেডি দিয়ে ভরে ফেলছে। পাগলি একটা।
আমি- কিছু চকলেট বের করে টেডি বিয়ার এর সামনে নিয়ে। আপু খাবে তুমি???
জান্নাত- দেখে রাগে ফুলতেছে।
আমি- কি হল খাবে না তুমি। এইবার আরেকটার সামনে নিয়ে আপনি খাবেন??
জান্নাত- কিছু না বলে আমার উপরে ঝাপিয়ে পরল। যাহ চকলেট গুলো নিয়ে নিল। সাথে কিল ঘুসি তো ফ্রি।
আমি- কোন মতে বেচে ফিরে আসলাম।
বাপরে আমার আপুকে রাগালে কেউ পারবে না ওর সাথে।
হাহাহাহাহা।
বাসায় সব জিনিস গুছানো শেষ। মানে যাদেরকে মালপত্র আনতে বলেছি তারা এসে সব ঠিক করে দিয়ে গেছে।
ঘরিতে দেখি ১১ টা বেজে গেছে।
জান্নাত কে খাবার দিয়ে এসেছি ওর রুমে
। (অডার করে আনা)
আর আমাদের জন্যও এনেছি। কারন আমি জানি শিমলা রান্না করতে পারে না।
আমি রান্না ঘরে গেলাম।
গিয়ে দেখি শিমলা কে চিনা যাচ্ছে না। হাহাহা মুখে চুলে আটা, হলুদ মাখিয়ে ভুত।
আমি হাসব না কাদব কিছু বুজতেছি না।
আমি- কি রান্না হয়েছে আপনার..??
শিমলা- হুম। তুমি গিয়ে বস আমি দিতেছি।
আমি- হুম।
টেবিলে গিয়ে বসলাম।
খাবার দিল কিছু সময় পরে।
মুখে দিয়ে ওয়াক থু😰😵
শিমলা- আমি সরি বলেই ভ্যায়য়য়,,,করে কেদে দিল। পুরা বাচ্চাদের মতো করে।
আমি- আগে কখনো এভাবে কাদতে দেখি নাই। তাই মাপ করে দিলাম। নাহলে দিতাম ঠাসসসস।
আমি- হয়েছে এইবার থামেন।
শিমলা- কেদে যাচ্ছে।
আমি- প্লিজ থামুন। আপু চলে আসবে।
শিমলা- এইবার থেমেছে।
আমি- এইবার আপনি এই গুলো খান।
শিমলা- ওর রান্না খাবার মুখে দিয়ে। ওয়াক।
আমি- এইগুলো আপনি সব খাবেন।
শিমলা- ভয় পেয়ে গেছে।
আমি- এইনিন।
শিমলা- খুশি
আমি- খেয়ে বাসার কাজ গুলো করে ফেলুন।
শিমলা- হুম।
এরপর আমি খেয়ে বাইরে গেলাম।
কিছু সময় আড্ডা দিলাম ফ্রেন্ডদের সাথে।
বাসায় গেলাম।
বাসায় এসে দেখি দুই মহারানী বসে বসে টিভি দেখতেছে।
শিমলা হাসতেছিল। আমায় দেখেই চুপ হয়ে গেল। হাহাহাহা।
জান্নাত- ভাইয়া বিকালে ঘুরতে নিয়ে যাবি আমাদের।
আমি- নাহ।
জান্নাত- আমি কিছু জানি না। যাবি ব্যাস এটাই ফাইনাল।
আমি- হুম। কে পারে এর সাথে।
এইবলে আমি রুমে এসে ঘুমিয়ে পরলাম।
বিকালে শিমলার ডাকে ঘুম ভাংল।
আমি ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
এরপর তিনজনে মিলে বের হলাম।
দুইজনই পরি। আমার আপু তো ছোট পরি। হিহিহিহি।
এরপর সবাই মিলে একটা পার্কে গেলাম।
সেখানে গিয়ে ঘটল আরেক ঘটনা।
আমি......
চলবে..



No comments:
Post a Comment