Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ২১


লেখকঃ শ্রাবন রায় 


এখন আমি আপনাদের বলব শিমলা আর আমার পরিবারের মধ্যে কথপোকথন। 
শিমলা আমার ভাইয়া,আব্বু,আম্মু কে আগে থেকেই চিনে।

শিমলা- ভাইয়া আমি শিমলা। আপনি আমায় চিনবেন না। আমি শ্রাবন এর ফ্রেন্ড। 
ভাইয়া- হুম। কিন্তু তুমি আমায় চিন কিভাবে??
শিমলা- শ্রাবন আমায় বলেছিল আপনি তার ভাইয়া।
ভাইয়া- ওহ।
শিমলা- ভাইয়া শ্রাবণ কই?? ওকে দেখতেছি না যে??(না যানার ভাব করে)
ভাইয়া- কেন তুমি ওর ফ্রেন্ড আর তুমি যান না ও কই...????
শিমলা- আসলে আমি এখানে থাকতাম ৬ বছর আগে। পড়াশোনা করার জন্য আমি ঢাকা চলে যাই। তাই আর যোগাযোগ নেই ওর সাথে। ভাইয়া শ্রাবন কই??
ভাইয়া- শ্রাবন আমাদের সাথে থাকে না।
শিমলা- কেন ভাইয়া????
ভাইয়া- একটা সমস্যার কারনে আব্বু ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
শিমলা- কিন্তু কেন??? আর শ্রাবন এখন কোথায় থাকে।
ভাইয়া- একটা ভুল বোঝাবুঝির কারনে ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে আব্বু। আর ওর কোন খোজ আমরা কেউ জানি না। ওকে আমরা খুজতেছি কিন্তু পাইতেছি না দীর্ঘ ৫ বছর ধরে।
আব্বু- মা আমি সেই পাপী যে নিজের ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি বিনা অপরাধে। (কেদে)
শিমলা- আংকেল আপনি কাদবেন না।  সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কোন কারনে আপনি ওকে বের করে দিয়েছেন। (জেনেও না জানার ভান করে)
আব্বু- সে এক বিশাল ঘটনা মা। 
শিমলা- ভাইয়া আপনি আমায় বলতে পারেন।  আমি ওর ফ্রেন্ড হই। আর ওকে খুজে পেতে সাহায্য করতে পারি।
ভাইয়া- শুনো তাহলে আমি বলি---

আজ থেকে ৬ বছর আগে 
শ্রাবন এর মামাতো বোন মিম আসে আমাদের বাড়িতে লেখাপড়া করার জন্য।
বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু  হটাৎ একদিন আমার মামা + মামি আমাদের বাসায় আসে।  অনেকদিন পরে।  এতে আমরা সকলে অবাক হই। কিন্তু আমার ভেবেছিলাম মিম আসতে বলেছে তাই বোধহয় তারা এসেছে। কিন্তু এর অন্য একটা কারণ ছিল।
আগেই বলে রাখি মিম কিন্তু খুব যেদী মেয়ে।

শ্রাবন আর মিম উপরের পাশাপাশি রুমে থাকত।
একদিন রাতে আনুমানিক রাত ১২.৩০ বাজে। তখন আমার মিমের চিতকার শুনি। এরপর আমার সেখানে যাই। গিয়ে দেখি শ্রাবন এর রুম থেকে চিৎকার আসতেছে। 
আমরা ভাব খারাপ বুজে দরজা ভেংগে ফেলি।
কিন্তু দরাজা খুলে যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমরা কেউ প্রস্তুত ছিলাম না। 
দরজা খুলে দেখি শ্রাবন মিমের উপরে শুয়ে আছে। মিম কান্না করতেছে। আর মিমের জামা কাপর কিছু কিছু যায়গায় ছেরা। (আপনারা এগুলো আগেই জানেন। কিন্তু এটা শিমলা জানে না। আজ শিমলার ভুল ভাংগবে।) 

ভাইয়া- এখন শিমলা তুমিই বল?  এটা যদি কেউ দেখে তো তার কি করা উচিত। 
শিমলা- ওহ।  তার কারনে আংকেল ওকে তারিয়ে দিয়েছেন??
আম্মু- হ্যা মা। এই লোকটা আমার ছেলেকে তারিয়ে দিয়েছে। আমি ভাবছিলাম আমার ছেলে আবার আমার কাছে ফিরে আসবে।  কিন্তু যদি জানতে পারতাম এই মিথ্যা অপবাদ এর জন্য আমার ছেলে আমার কাছ থেকে চিরকালের জন্য চলে যাবে?? তাহলে আমি ওকে যেতে দিতাম না।(কেদে কেদে। আমি চলে আসার পর থেকে আব্বু আম্মুর সম্পর্কে ঠিক নেই।) 
মেয়েটি- আম্মু তুমি কেঁদ না। দেখবে শ্রাবন ঠিকই একদিন ফিরে আসবে..
 এরপর মেয়েটি আমার আম্মুকে নিয়ে চলে গেল একটা রুমে। কারন আম্মু অনেক কান্না করতেছে। যার কারণে অসুস্থ হতে পারে।

শিমলা- ভাইয়া ওই মেয়েটি কে??? আর উনি আপনার আম্মুকে আম্মু ডাকে কেন?? শ্রাবনের তো কোন বোন ছিল না??
ভাইয়া- তা নয়।  ও হচ্ছে আমার স্ত্রী। 
শিমলা- ওহ ভাইয়া সরি আমি বুজতে পারি নি।
ভাইয়া- হুম ঠিক আছে।
শিমলা- কিন্তু ভাইয়া আপনারা শ্রাবনের সাথে যা  করেছেন সেটা একদম ঠিক করেছেন। হুম আমি ওর বন্ধু হয়ে বলছি। কারন ও এটা একদমই ঠিক করে নাই। কিন্তু আপনার বার বার মিথ্যা অপবাদ বলছেন কেন??(কথা বের করার জন্য এটা বলতেছে।)
আব্বু- মা শ্রাবনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াই হয়েছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। 
শিমলা- কিন্তু কেন আংকেল??
ভাইয়া- আমি বলতেছি তোমায় শুন...।

শ্রাবনকে বাড়ি থেকে বের করে দেবার কিছু দিন পরে আম্মু খুব ভেংগে পরে।
আম্মু শুধু শ্রাবনের কথা ভেবে কান্না করত। আম্মু শ্রাবনকে অনেক ভালোবাসত। আমরা অনেক বুঝানোর পরেও সে শুধু কান্না করত।
আমার আর আব্বুর খানিকটা কষ্ট হলেও আমরা মনকে শান্ত করতাম যে শ্রাবন বখাটে হয়ে গেছে। এইভাবে কেটে যায় একটা বছর। আম্মু আস্তে একটু শক্ত হলেও শ্রাবনের কথা মনে পরলেই কান্না করত। আর মিমও আমাদের সাথে থাকত।

একদিন মিমের এক্সিডেন্টে হয়। সেদিন আমরা সকলে ওর কাছে হাস্পাতালে যাই।
আমাদের দেখে মিম কিছু বলতে চায়।
যেটা শুনার পরে আমরা সকলে অবাক হই। আসলে মিমের অনেক বড় এক্সিডেন্ট হয়েছিল। তাই মিম ভয় পেয়ে যায় যে ও আর বাচবে না। তাই মিম আমাদের সবাইকে ডাকে একটা কথা বলার জন্য।

মিম- আমি অনেক বড় একটা অপরাধ করেছি যার কোন ক্ষমা হয় না।
মিমের আব্বু- কি করেছিস মা। এমন বলতেছিস কেন??
মিম- আব্বু আমি অনেক বড় অন্যায় করেছি।  যার কারনে আমার এই অবস্থা। 
ভাইয়া- মিম কি এমন করেছিস বল শুনি??
মিম- ভাইয়া তোমার আমায় ক্ষমা করে দিও।
আব্বু- মা বল কি করেছিস.???
মিম- ১ বছর আগে শ্রাবন আমার সাথে কোন কিছু করে নাই। আসলে আমি ওকে ভালোবাসাতাম। তাই ওকে প্রপোজ করি কিন্তু ও সেটা গ্রহণ করে নাই। ও নাকি কাকে ভালোবাসে।  তাই আমি ওকে পাওয়ার জন্য ওই নাটকটা করি।(কেদে)
মিমের আব্বু- ঠাসসসসস ঠাসসসস।  তোকে আমরা এই শিক্ষা দিয়েছি।
আম্মু- কেদে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
আব্বু- বাইরে গিয়ে কাদতে থাকে।
ভাইয়া- তখন আমি কি যে করব কিছুই বুজতে পারতেছিলাম না। আর মিমের অবস্থাও খারাপ।  ও ওর পাপের শাস্থি পেয়ে গেছে। তাই কিছু বলি নাই। আর মামা ওকে অনেক বকা দেয়।  আমি থাকার কারনে মারতে পারে নি।

এরপর থেকে আমরা শ্রাবনকে খুজতে থাকি। কিন্তু কোথাও পাই নি। কে যানে ও এখন কোথায় কি অবস্থায় আছে??

শিমলা- এই কথা গুলো শুনে নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারতেছে না। একদিকে খুশি হচ্ছে। আর এক দিকে কষ্ট বা ভয় হচ্ছে। কিভাবে শ্রাবণ এই ৬ টা বছর একা কাটাল। যে ছেলে এইভাবে টাকা উরাত সে কিভাবে এত পরিবর্তন হল। সে কি মাপ করবে আমায়।

এরপর শিমলা কিছু না বলে আমাদের বাসা থেকে বেড়িয়ে চলে যায়।
এরফলে সকলে অবাক হয়। 
ভাইয়া শিমলাকে অনেক ডাকে কিন্তু শিমলা কিছু শুনে না।কাদতে কাদতে চলে যায়। 

এদিকে------
আমি আর জান্নাত বেশ মজা করে দিন
কাটাচ্ছি। কারন শিমলা নামক পেইন আর আমার কাছে নেই। একা থকতে আর কষ্ট হয় না। এই ৬ বছর একাই থেকেছি। তাই কেউ দূরে থাকলেও মানিয়ে নিতে পারি।
বুকের ভিতর একটা চাপা কষ্ট হচ্ছে কিন্তু সেটার ভয় আর এখন আমি করি না।

শিমলা আমাদের বাসা থেকে বেরিয়ে সোজা সেই পার্কে চলে যায়। যেখানে আমার শেষ দেখা করেছিলাম।
সেখানে গিয়ে কাদতে লাগে।
আর মনে মনে ভাবে করা ভাবে পারল সে শ্রাবনকে অবিশ্বাস করতে? কিভাবে পারল এত বছর পরেও অপমান করতে। 
তাই শিমলা একটা সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্তটা ছিল......

চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad