লেখকঃ শ্রাবন রায়
গল্পে ফেরা যাক। আগের পর্বে শিমলা একটা সিন্ধান্ত নেয়। যেটা পুরা গল্পটার মোর ঘুরিয়ে দিবে। তাহলে চলুন শোনা যাক সে সিদ্ধান্ত।
সেইদিন রাতে শিমলা তার আব্বুর কাছে গিয়ে বলে--
শিমলা- আব্বু আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
শিমলার আব্বু- হুম মা বল।
শিমলা- আব্বু আমি বিয়ে করতে চাই..
শিমলার আব্বু- এত ভালো খবর। তোকে কত করে বলি বিয়ে করে নে। কিন্তু তুই করতে রাজি না। তাই আমি কিছু বলি না।
শিমলা- আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে রাজি।
শিমলার আব্বু- তা কাকে বিয়ে করবি..??
শিমলা- আব্বু শ্রাবনকে।(শিমলার আব্বু সব জানে আমার আর শিমলার ব্যাপারে)
শিমলার আব্বু- কিন্ত মা তুই তো বলেছিলি শ্রাবন তোর সাথে বেইমানি করেছে??
শিমলা- আমি কিছু জানি না। আমি কালকেই বিয়ে করব। এটাই শেষ কথা।
শিমলার আব্বু- তুই যা ভালো বুজিস।(শিমলার আব্বু জানে যে ও খুব যেদী যা বলবে তাই করবে। এজন্য বেশি কথা বলে নাই)
শিমলা- হুম। আর আমি এখন রাতের বাসে ঢাকা ফিরতে চাই।
শিমলার আব্বু- কিন্তু মা তুই এই রাতে চলে যাবই??
শিমলা- হুম।
শিমলার আব্বু- ওকে।
এই বলে শিমলা তার সব কিছু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
এদিকে আমি আর জান্নাত রাতের খাবার খেয়ে জান্নাত কে৷ নিয়ে পড়তে বসলাম।
অনেক রাত পর্যন্ত পড়ালাম। কারন কোন কাজ নেই অফিসের। সারা দিন শুধু বসে বসে কাটিয়েছি। কেমন যেন আমর বউয়ের অফিস 😉😉
রাতে শুয়ে পরলাম।
সকালে যথা নিয়মে অফিসে চলে গেলাম।
জান্নাত আসে নাই। ও নাকি আজ স্কুলে যাবে না।
আমি অফিসে গিয়ে আমার কাজ করতে থাকি।(বসে বসে মোবাইল চালানোর কাজ😉😉)
আপনারা ভাবছেন আমি এত কুল কি করে। আসলে এইসব ছোট বড় ব্যথা এখন আমার কোন কষ্ট হয় না। অভ্যাস হয়ে গেছে। সো.. কুল।
শিমলা ভোরে তার বাসায় পৌছে সব কিছু রেখে আমার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
জান্নাত আজ স্কুলে যায় নি। কারণ রাতে শিমলা ফোন করছিল। জান্নাতকে স্কুলে যেতে বারন করে। তাই জান্নাত স্কুলে যায় নি।
বাসায় এসে -----
জান্নাত- ভাবি তোমায় এমন দেখাচ্ছে কে?? আর কি হয়েছে?? রাতে ফোন দিছিলে কেন??(জান্নাত শিমলাকে ভাবি বলে ডাকে। ইস ঢং)
শিমলা- জান্নাত অনেক কিছু হয়ে গেছে। আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি।
জান্নাত- ভাবি কি হয়েছে আগে বল...
শিমলা- জান্নাত তুমি বল আমায় ভুল বুজবে না।
জান্নাত- ওকে ভাবি। তুমি বল।
শিমলা- জান্নাত তুমি শুনে অবাক হবে।
জান্নাত- কি বল??
শিমলা- তোমার ভাইয়া একা নয় এই পৃথিবীতে। তার পরিবার আছে।
জান্নাত- কি বলছ তুমি এইসব ভাবি??আর তাহলে ভাইয়া একা থাকে কেন??
শিমলা- আমি সব বলতেছি তুমি শোন।
জান্নাত- হুম বল।
শিমলা- তোমার ভাইয়ার......(সব কিছু খুলে বলে)
জান্নাত- কেদে দেয়। আমার ভাইয়ার জীবনে এত কষ্ট আর আমি কিছুই জানি না।
শিমলা- জান্নাত তুমিও কি আমায় ভুল বুজতেছ??
জান্নাত- না ভাবি। তোমার জায়গায় যে কেউ থাকলেই সে এটা করত।
শিমলা- জান্নাত আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর সেটা না করলে আমি ওকে হারিয়ে ফেলব।
জান্নাত- ভাবি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছ??
শিমলা- তোমার সাহায্য ছারা এটা সম্ভব নয়..
জান্নাত- হুম বল কি করতে হবে আমায়??
শিমলা- জান্নাত আমি আজ শ্রাবনকে বিয়ে করতে চাই।
জান্নাত- কিন্তু ভাইয়া কি মানবে??
শিমলা- আমি জানি মানবে না। কিন্তু তুমি বললে সে অবশ্যই মানবে। কারন তোমার ভাইয়া এই পৃথিবীতে তোমায় খুব ভালোবাসে। আমার বিশ্বাস সে তোমার কথা রাখবে।
জান্নাত- ওকে ভাবি। তুমি যা বলবে আমি তাই করব।
এরপর জান্নাত আর শিমলা দুজনে একটা প্লান করে। সেটা না হয় পরে বলি।
আমি অফিসে এসে দেখি অনেক ফাকা ফাকা। আমি ভাবতেছি সবাই কই..??
কিছু স্টাফ আর পিয়ন চাচা আছে।
আমি- চাচা অফিসের সবাই কই??
চাচা- বাবা সকলে একটা ফাংশন এ গেছে।
আমি- ওহ। ঠিক আছে।
আমি একা কি করব। তাই ল্যাপটপে একটা মুভি দেখতে লাগলাম।
একটার জায়গায় দুইটা দেখা শেষ। কিন্তু সময় শেষ হচ্ছেই না।
তাই অফিসের বাইরে এসে এক কাপ চা খেলাম। বাহ মুড টা ফ্রেশ হয়ে গেল।
এরপর অফিসে ফিরে আবার সেই মোবাইল + ল্যাপটপ।
কি শান্তি বলেন তো..বসে বসে চাকরির টাকা পাব। একেই বলে বিন্দাস লাইফ।
(কিন্তু এই বিন্দাস লাইফ যে এত ভারি হবে পরে বুজতেই পারি নি। চলুন বলি তাহলে)
খুব কষ্টে অফিস টাইম শেষ করে বাসায় গেলাম। ভাবতেছি একটা বাইক কিনব। আর এভাবে চলা যায় না। হুম এই মাসের টাকা পেলে কিনুম।(কি বাইক কিনব সাজেস্ট করুন😁)
বাসায় এসে কলিং বেল চাপ দিলাম।
জান্নাত দরজা খুলে দিল।
আমি- কিরে পাগলি নতুন জামা পরেছিস কেন??
জান্নাত- তুইও পরে নে।
আমি- কেন কই যাব??
জান্নাত- বিয়ে বাড়ি যাব।
আমি- কার বিয়ে?? আর তোর তো কোন রিলেটিভ নেই। তাহলে কার বিয়েতে যাব??
জান্নাত- শিমলা আপুর বিয়ে...
আমি- আগে একটা পাপ্পি দিয়ে নিলাম আপুকে। বাহ তুই কি খবর দিলি। তুই একটু দারা আমি আসতেছি।
জান্নাত- (হুহ বুজবে মজা. মনে মনে)
আপনার ভাবতেছেন আমি খুশি। কিন্তু না। আমার ভিতরে খুব কষ্ট হচ্ছে আজ। কিন্তু বলেছি না এখন সব অভ্যাস হয়ে গেছে। আর জান্নাত কে কিছু বুজতে দিলাম না। কারন ও কিছুটা জানে যে আমি শিমলা কে পছন্দ করে। তাই ফাও ঝামেলা দিয়ে লাভ কি?
অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে রেডি হলাম। আর মনকে বুজ দিলাম কেন আমি ওর জন্য কষ্ট পাব?? যে আমায় অবিশ্বাস করে?যে আমায় প্রতারক বলে?
এক দিক দিয়ে কষ্ট এর এক দিক দিয়ে কিছু থেকে মুক্তি পাবার আনন্দ।
রেডি হয়ে জান্নাত আর আমি একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম ম্যামের বাসায়।
বেশ বড় বাসা। কিন্তু বেশি লোকজন নেই।
ভিতরে গিয়ে দেখি অফিসের সবগুলো এখানে। আমার খুব রাগ হল। সবাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। আমি কিছু বুজতেছি না। আর রহিম আমায় দেখে মুচকি মুচকি হাসতেছি। কিছু বুজতেছি না। আর এদিকে শিমলা আমায় নিয়ে বাসার ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে হাত ধরে।
আমি- কিরে কই যাস??
জান্নাত- চুপ করে আয় ভাইয়া।
আমি- ওকে চুল। মনে হয় বউ দেখতে যাচ্ছে।
জান্নাত একটা রুমে নিয়ে এল আমায়। কিন্তু একি??
রুমে ঢুকে দেখি রুমে শিমলা একা কনে সাজে বসে আছে। আমায় দেখেই দারাল।
বেশ সুন্দর লাগছে ওকে।
আমি আর তাকালাম না। মায়ায় পরে লাভ কি??
আমি- জান্নাত আমায় এখনে কেন নিয়ে এসেছিস??
শিমলা- ওকে আমি আনতে বলেছি তোমায়??
আমি- কেন??
শিমলা- আমি তোমায় বিয়ে করব..??
আমি- কিহ???আপনার মাথা ঠিক আছে??
শিমলা- হুম আছে।
আমি- আপনি থাকুন আমি যাই।
যেই বের হব সেই সময় জান্নাত আমার হাত ধরল।
আমি- জান্নাত আমায় ছার প্লিজ।
জান্নাত- না ভাইয়া তুই এই বিয়ে করবি।
আমি- জান্নাত শুধু শুধু ফালতু আবদার করিস না।
জান্নাত- না ভাইয়া তুই এই বিয়ে করবি।
আমি না। এটা সম্ভব নয়।
জান্নাত- আমি জানি তো আমার এই পৃথিবীতে কেউ নেই। আমি একা। কেউ আমার কথা রাখে না।
আমি- কে বলছে তোর কেউ নেই??আমি আছি তো।
জান্নাত- আমার নিজের ভাইয়া হলে তো তুই আমার কথা রাখতি ভাইয়া...
আমি- কি আর করার। জান্নাত এর জন্য রাজি হলাম।
এরপর শিমলা আমায় একটা ব্যাগ দিল।
যেটাতে বিয়ের জামা কাপর ছিল। আমি একটা রুমে গিয়ে পরতে লাগলাম। আর ভাবতেছি........
এই জন্যই বাইরের সবাই আমাকে এইভাবে দেখতেছিল।
এক মন বলে বিয়ে করি.. আর এক মন বলে বিয়ে না করি।
এরপর আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। কি আর করব কে পারে আমার আপুর সাথে। ওর জন্য বিয়ে করতে হল।
শিমলার মুখে এক বিজয়ের হাসি। কিন্তু ও জানে না ওর জন্য কি অপেক্ষা করতেছে।
এরপর শিমলাকে নিয়ে বাসায় এলাম। শিমলা ওকে নিয়ে আমার রুমে চলে গেল।
রাত ১১ টা বাজে। তাই আমি বাইরে চলে এলাম। বন্ধুদের সাথে কিছু সময় কাটালাম।
এরপর বাসায় এলাম। এইবার শিমলা দেখবে আমার আসল রুপ। আমি কি করতে পারি। আমায় জোর করে বিয়ে করা।
চলবে.....



No comments:
Post a Comment