লেখকঃ শ্রাবন রায়
আজকের দিনটা আমার কাছে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটা নির্ধারণ করে
দিবে আমার সব কিছু। আজ আমার
ইন্টার এর রেজাল্ট দিবে।
রেজাল্ট শুনেই আমি তো পুরাই অবাক।
কারন রেজাল্ট দেখানোর মতো হয়েছে।
হ্যা আমি A+ পাইছি।(বাস্তবে 😪 আদু ভাই😁)
আমাদের গ্রুপে অনেকেই A+ পেয়েছে।
বাপ্পিও ভালো রেজাল্ট করছে ।
দেখতে দেখতে আমাদের ইন্টারমিডিয়েট পড়া শেষ। বাড়ি থেকে আজ ১ বছরের বেশী চলে এসেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত কেউ আমার খোজ নেয় নি।
আর বাড়ির সকল ফ্রেন্ড দের কে ব্লক করে দিয়েছি। কারন
সকলের সাথে কথা বললে হয়তো
আমি আর এখানে থাকতে পারব না।
সিমটাও বদলে ফেলেছি।
তাই বাগেরহাটের কারো সাথে কোন
যোগাযোগ নেই।
একদিক থেকে ভালো হয়েছে।
আমি নিজের বাসায় থাকলে হয়তো এত
ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম না।
বাড়ির কেউ এই রেজাল্ট শুনলে
খুবই খুশী হতো।
এইসব কথা আর না ভাবাই ভালো।
আমার ব্যাচের সকলে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছে।
আর বাপ্পি বাগেরহাট ফিরে যাবে।
কারন ওর মা নাকি অসুস্থ। তাই বাপ্পি
আবার বাগেরহাট গিয়ে ভর্তি হবে।
তাই এখন বাসায় আমি একা থাকব।
আর মাত্র ৫ টা বছর আমায় কষ্ট করতে
হবে। এরপর কোন একটা চাকরি
করে জীবনটা পার করে দেব।
আজ বাপ্পির সাথে শেষ রাত।
আমরা আমাদের ব্যাচের সবাই
মিলে আজ একটা পার্টি দিয়েছি।
কারন আজ আমাদের সবাই
একসাথ হয়েছি।
আর কোন দিন হয়তো নাও হতে পারি।
কারন সবাই বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে
ভর্তি হয়ে দূরে চলে যাবে।
রাতে পার্টিতে-------
আমরা সবাই মিলে সেই চিরচেনা ব্রিজের
উপরে বসে আড্ডা দিচ্ছি।
বাপ্পি- দোস্ত তোদের সবাইকে ছেরে চলে
যাচ্ছি। ভালো থাকিস তোরা।
রহিম- ভাই এটা কোন ব্যাপার না।
কোন একদিন আবার সবাই এক হব।
আমি- হুম দোস্ত ঠিক বলেছিস।
আবিদ- দোস্ত তোদের কাউকে ভুলতে
পারব না।
সবাই- হুম আমরাও।
এরপর সবাই মিলে কিছু পিক তুলে
একটা গ্রুপ খুললাম।(WhatsApp group) মানে সকলে দূরে থাকলেও যেন
কথা বলতে পারি।
এরপর কিছু সময় আড্ডা দিয়ে বাসায়
চলে এলাম আমি আর বাপ্পি।
বাসায়---------------
বাপ্পি- দোস্ত খুব ঘুম পাচ্ছে,,চল ঘুমাই।
আমি- হুম চল।
এরই মধ্যে রিয়ার কল।
আমি- হুম বল
রিয়া- দোস্ত তুই কোন ইউনিভার্সিটিতে
ভর্তি হবি???( রিয়া আর আমি বেষ্ট ফ্রেন্ড)
আমি- ****** ইউনিভার্সিটিতে। তুই??
রিয়া- ***** ইউনিভার্সিটিতে। তোর ইউনিভার্সিটি থেকে দূরে।
আমি- হুম। তুই তো আমায় ভুলে যাবি?
রিয়া- হারামি তোরে কি করে ভুলব বল।
আমি- হুম। আমিও ভুলতে পারব না।
রিয়া- হুম।
আমি- আমার বাসা তো তুই চিনস??
রিয়া- হুম
আমি- যদি কোন দিন দরকার হয় তাহলে
আসিস। কারন এই বাসায় আমি থাকব।
রিয়া- ওকে দোস্ত বায়
আমি- হুম বায়। গুড নাইট
রিয়া- গুড নাইট।
এই বলে আমি রুমে গিয়ে দেখি বাপ্পি
ঘুম। অন্য কোন সময়ে হলে আমি ওকে
ঘুমাতে দিতাম না। কারন কাল ওর জার্নি
আছে তাই কিছু বললাম না।
আমিও ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে ঊঠে বাপ্পিকে নিয়ে
সোজা বাসএস্টান্ডে চলে গেলাম।
৮ টায় রওনা দিবে বাস।
এখন সময় ৭ টা ৫০ মিনিট।
তাই আমি বাপ্পিকে বললাম
আমার বাসয় জেন কিছু না বলে।
আর এমনিতেই অর বাসা আমার বাসা
থেকে অনেক দূরে। তাই কোন
প্রশ্নই উঠে না।
এরপর আরো কিছু কথা বললাম
বাপ্পি- দোস্ত ভালো থাকিস।
আমি- তোকে ছারা কিভাবে ভালো থাকব?
বাপ্পি- আমিও কি পারব ভালো থাকতে বল??
এরপর আরো কিছু কথা বলে আমি
ওকে জরিয়ে ধরে কেদে দিলাম।
বাপ্পিও কেদে দিল।
এরপর বাস ছেরে দিল। আর আমার
কাছ থেকে কেমন যেন অনেক বড়
একটা কিছু একটা কমে যাচ্ছে।
আসলে একটা বছর একসাথে ছিলামতো
সুখে দুঃখে।
এরপর আমি বাসায় চলে এলাম।
বাসার সব কিছু গুছিয়ে নিলাম।
কারন বাসায় এখন আমি একা থাকব।
এইসব করতে করতে দুপুর হয়ে গেছে।
তাই দুপুরের খাবার খেয়ে যব করতে
চলে গেলাম। এখন আমি একটা মোটামুটি স্থানে কাজ করি।
কারন আমার কাজ ম্যানেজার স্যার
খুব পছন্দ করে। এইভাবে কাজ করতে করতে সময় হয়ে গেল বাসায় যাবার।
তাই দোকান থেকে বের হয়ে হাটতে লাগলাম একটা কোক খেতে খেতে।(আমি এখন একটা পর্যায়ে ঊঠে গেছি। কারন এই শহরে আমি প্রায় ১ টা বছর আছি। কিভাবে চলতে হয় তা খুব ভালোই জানি।(
এখান থেকে সোজা টিউশন করাতে যাব।
রাস্তা দিয়ে একটা ফাকা জায়গা দিয়ে হেটে যাচ্ছি। রাস্তায় তেমন গাড়ি নেই।
ঠিক তখনই দেখি একটা রিক্সা যাচ্ছিল কিন্তু একটা ট্রাক এসে সজরে ধাক্কা দিল
রিকশায়। রস্তার আসে পাশে কাউকে দেখতে পেলাম না। আর ট্রাকটা ভয়ে চলে গেল এক টানে। আমি দেখলাম রিকশায় একটা মহিলা আর একটা বচ্চা মেয়ে আছে। রিকশা মামা ঠিক আছে। আমি দৌড়ে তাদের কাছে গেলাম।
রিকশাটা ভেঙে গেছে। রিকশাওয়ালা মামা ঠিক আছে আর মেয়েটি মাথায় চোট
পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। আর মহিলাটির
অবস্থা খুবই খারাপ। তাই আমি কি
করব কিছুই বুজতেছি না। আশেপাশে কোন গাড়িও নেই। তাই আর দেরি না করে এক বন্ধুকে ফোন করে একটা গাড়ি
নিয়ে আসতে বললাম।(এক বছর আছি তো তাই অনেক বন্ধু আছে)
কিছুক্ষণ পরে বন্ধু গারি নিয়ে এল
আমি আর দেরি না করে তাদেরকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
ডাক্তার বচ্চাটিকে(৩ বা ৪ এ পরে বোধহয়) একটা রুমে আর মহিলাটিকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেল।
যেহেতু অনেক রাত হয়েছে তাই আমি
বন্ধুকে ধন্যবাদ দিয়ে বাসায় চলে যেতে
বললাম। আর টিউশন করতে যাব না তা সবাইকে বলে দিলাম।
এরপর কিছু সময় পরে ডাক্তার বেরিয়ে এল। আর আমায় যা বলল আমি তা
শুনে খুবই............
চলবে....?????
চাইলে এড হতে পারেন।



No comments:
Post a Comment