Post Top Ad

Post Top Ad

Ex girlfriend যখন অফিসের বস

Ex গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস পর্বঃ ০৯


লেখকঃ শ্রাবন রায়

এরপর কিছু সময় পরে ডাক্তার বেরিয়ে এল। আর আমায় যা বলল আমি তা
শুনে খুবই অবাক।
ডাক্তার বলল আন্টির অবস্থা খুব বেশী
ভালো। যেকোনো সময়ে মারা যেতে পারে।
এবং আন্টি নাকি আমাকে কিছু বলতে চায়। তাই আমকে ভিতরে যেতে বলছে।
আর বাচ্চাটি ভালো আছে। তাই আমি
কোন কথা না বলে ভিতরে চলে গেলাম।
আমাকে দেখেই আন্টি বলল---
আন্টি- বাবা আমার মেয়ে কেমন আছে?
আমি- আন্টি আপনারা মেয়ে ভালো আছে।
আন্টি- বাবা আমি মনে হয় বেশী সময়
আর বাঁচব না।
আমি- আন্টি আপনার কিছু হবে না।(মিথ্যা আস্সাস দিলাম)
আন্টি- বাবা আমাকে ডাক্তার সব বলছে।
আমি-......
আন্টি- বাবা তুমি আমার একটা শেষ ইচ্ছা পূরন করবে????
আমি- জ্বী আন্টি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি
আমি রাখব আপনারা কথা।
আন্টি- বাবা আমার কিছু হলে তুমি আমার মেয়েকে দেখে রেখ। নিজের বোন হিসেবে দেখে রেখ। (কেদে)
আমি- আন্টি আপনি না বললেও আমি ওকে আগলে রাখতাম। কারন আমার কেউ নেই এই দুনিয়ায়।
আন্টি........
আন্টি আর কিছু বলছে না। তাই আমি ডাক্তারকে ডাক দিলাম।
ডাক্তার এসে যা বলল আমি তা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আন্টি আর বেচে নেই। কেন জানি আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
এরপর আমি বাচ্চাটির রুমে গেলাম।
গিয়ে দেখি ও ঘুমাচ্ছে। আমি ভাবতে লাগলাম কি নিষ্পাপ ভাবে ঘুমাচ্ছে। কন্তু এই দুনিয়া থেকে ওর সবচেয়ে দামী জিনিস হারিয়ে ফেলছে তা ও নিজেও জানে না।
এরপর কিছু সময় পর ও ঘুম থেকে উঠল।
(আমি বাচ্চাটির নাম জানি না)
আমাকে দেখেই ও ভয় পেতে লাগল।
আমি ওর কাছে গিয়ে
ভয় পেও না। আমি তোমাদের বাচিঁয়েছি
রোড এক্সিডেন্টে থেকে।
এরপর কিছুটা শান্ত হল।
আমি বললাম----
আমি- আপু তোমার নাম কি??
আপু- কিছু সময় পরে....জান্নাত।
আমি- বাহ তোমার মতো সুইট নেম।
জন্নাত- ভাইয়া আমার আম্মু কোথায়??
আমি-......
জান্নাত-ভাইয়া(ধাক্কা দিয়ে)
আমি- আপু আগে বল তুমি কান্না করবে না??
জান্নাত- কেন??
আমি- কারন তোমার আম্মু আমায় বলেছে যে তুমি নাকি খুবই ভালো মেয়ে?
জান্নাত- হুম
আমি- তাহলে ভালো মেয়েরা তো কান্না করে না।
জান্নাত- তাই,?? তাহলে আমিও কাদব না..।
আমি- এইত গুড গার্ল।
জান্নাত- তাহলে আমার আম্মু কই?
আমি- আপু তোমার আম্মু তোমায় রেখে ওই উপরের তারা হয়ে গেছে।😢
জান্নাত- (কেদেই যাচ্ছে)
আমি- তুমিতো পচা মেয়ে।
জান্নাত- না(কেদে কেদে)
আমি- তাহলে তুমি কাদ কেন??
জান্নাত- ভাইয়া বলে আমায় জরিয়ে ধরল।
কিছু সময় পরে---
জান্নাত- ভাইয়া আমি থাকব কার কাছে??
আমি- কেন??
জান্নাত- ভাইয়া এই পৃথিবীতে আমার আম্মু ছারা আর কেউ নেই(কেদে)
আমি- তাহলে আমি কে?
জান্নাত- ভাইয়া..
আমি- তাহলে কোন ভাই কি তার বোনকে একা রেখে চলে যায়।
জান্নাত- তুমি সত্যি বলছ??
আমি- হ্যা।
আর কিছু বলার আগেই বেড থেকে উঠে এসেই আমায় জরিয়ে ধরল। আমিও ওকে কোলে তুলে নিয়ে বেডে শুয়িয়ে দিলাম। এরপর বললাম আপু তুমি শুয়ে থাক, আমি ডাক্তার আংকেলের সাথে কথা বলে আসি। তোমায় বাসায় নিয়ে যেতে হবে তো।
এরপর হাটতে হাটতে ভাবতে লাগলাম মেয়েটি কত কিউট। আমার স্বপ্ন ছিল আমারো এমন একটা কিউট বোন থাকবে। আমার স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।
আর ভাবলাম আমার এই দুনিয়ায় তো কেউ থেকেও নেই। তাই জান্নাতকে আকরে ধরেই বেচে থাকব। এরপর ডাক্তারকে বলে ওকে নিয়ে ওর মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম। জান্নাত ওর আম্মুকে দেখেই কেদে দিল। এরপর অনেক সময় পরে ওকে ছারিয়ে আন্টিকে নিয়ে হাসপাতালের লোক নিয়ে আন্টির জানাজা করে জান্নাত কে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম। রাত ১ টার বেশি বাজে। জান্নাত আমার কোলে ঘুমিয়ে গেছে। তাই ওকে নিয়ে ওর বেডে শুয়িয়ে দিয়ে আমি ওর পাশে বসে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ডাক্তারের কাছে গিয়ে জান্নাতকে রিলিজ করলাম।( অল্প টাকা খরচ হয়েছে। কাছে যে টাকা ছিল তাতেই হয়ে গেছে।) এরপর জান্নাত এর কাছে গিয়ে দেখি ও বসে আছে তাই আমি ওকে সব কিছু বলে বাসার দিকে রওনা দিলাম।
যাবার পথে ভাবলাম জান্নাত মনে অনেক
কষ্ট পেয়েছে। তাই ওকে নিয়ে কাছের একটা পার্কে গেলে ভালো হয়। যেই ভাব সেই কাজ। জান্নাতকে নিয়ে শিশু পার্কে গেলাম। ওখানে গিয়ে ওর মন ভালো হয়ে গেল।(বাচ্চা মানুষ তো, অল্পতেই খুশী)
এরপর ওকে কিছু আইসক্রিম কিনে দিলাম। আর কিছু চকলেট নিয়ে বাসায় এলাম।
বাসায় এসে------
আমি- আপু এইটা তোমার বাসা.।
জান্নাত- হুম। তুমি একা থাক??
আমি- হুম।
জান্নাত- তোমার কেউ নেই??
আমি- আছে তো।
জান্নাত- কই? কোথায় সে?
আমি- জান্নাত কে কোলে নিয়ে..এইতো আছে আমার একমাত্র আপু।
জান্নাত- আমায় জরিয়ে ধরে পাপ্পি দিল।
যেহেতু আমার কলেজ নেই তাই সারাদিন বাসায় থাকব। (মানে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত)
তাই আমি আর জান্নাত মিলে দুজনে রান্না করলাম।
খাবার খেতে বসে----
আমি খাচ্ছিলাম। তখন দেখি জান্নাত খাচ্ছে না।
আমি- আপু খাবার ভালো হই নাই?
জান্নাত- হুম ভালো হয়েছে।
আমি- তাহলে খাচ্ছ না কেন??
জান্নাত-....
আমি- আমি আর কিছু না বলে ওকে খায়িয়ে দিলাম। জান্নাত কিছু না বলে খেয়ে উঠেই আমায় জরিয়ে ধরে কেদে দিল।
আমার আর বুঝতে বাকি রইল না। তাই আমি ওকে শান্তনা দিয়ে টিভি দেখতে বসলাম।
এখন সকাল ১১ টা বেজে গেছে, তাই আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম---
আমি- আপু তোমাদের বাসাটা কোথায়???
জান্নাত- ****** ওখানে। (ভাড়ায় থাকত)
আমি- তাহলে তো আমাদের আজ বিকেলে গিয়েই তোমার সব জিনিস পত্র নিয়ে আসতে হবে।
জান্নাত- হুম ভাইয়া।
আমি- আচ্ছা আপু তোমার কোন রিলেটিভ নেই??
জান্নাত- নাহ ভাইয়া।
আমি- ওহ কোন ব্যাপার না।
এরপর আরো কিছু সময় টিভি দেখে জান্নাতকে ঘুম পারিয়ে দিলাম।
বিকালে জান্নাতকে ঘুম থেকে তুলে
ফ্রেশ করে.........
চলবে...

Related Posts

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad