#writter Asift
-- না রিমি কিছুই জানে না।তবে রিমি রিদয়কে অনেক ভালোবাসে?(আন্টি হাস্যজ্জল মুখ নিয়ে চলে গেলো)
আমার চোখ বেয়ে পানি পরছে।সাথে নানা প্রশ্ন?
তাহলে কি রিমি আমার সাথে শুধু টাইম পাস করছে। কিন্তু রিমির ভালোবাসায় এমন কিছুই ত দেখি নাই।নাকি অন্য ব্যপার আর ভাই হিসেবে ত ভালোবাসতেই পারে।
কিন্তু আংকেল আন্টি ত রিমির বিয়েই ঠিক করে ফেলছে?তাহলে আমাদের ভালোবাসার কি হবে?রিমি কি বলতে পারবে আংকেল আন্টিকে?আর রিমি না হয় বলবে.।কিন্তু আমি কি পারবো?
এটা ত অসম্ভব আমিত এই কথা কখনো আংকেল আন্টির কাছে বলতে পারবো না।হতে পারে রেগে গিয়ে বাসা থেকে বের করে দিবে।আর আমার জন্য এত কিছু করার পরও কি আংকেল আন্টিকে বলতে পারব?না আমি পারব না।রিমিকে হারিয়ে ফেললেও। আমি না হয় সব কিছু মেনে নিব রিমি কি পারবে? কি করব বুজতেছিনা।
হঠাৎ রুমে রিমি.
-- আসিফ আমাকে কেমন লাগছে (রিমি সেজেগুজে এসে)
-- হুম খুব সুন্দর লাগছে(হাসিমুখে উত্তর দিলাম।যেন রিমি কিছু বুজতে না পারে)
-- আসিফ তুমিও চলো?(রিমি)
-- না,,৩০ মিনিটের রাস্তা,,,এখনি ত এসে পরবা।আমি বাসায় আছি,,,তোমরা যাও।(আমি)
-- আচ্ছা,,,তাহলে আসি?(রিমি চলে গেলো,রিমিকে দেখে মামাতো ভাইয়ের চোখ কপালে উঠবে সিওর।কারন রিমি এমনেতেই সুন্দর।আবার শাড়ী পরা সাজগুজ)
আমি সুয়ে আছি,,আর ভাবছি,,,এত সমস্যা একটা ছেলের কি করে হতে পারে।কেউ যে আমাকে ভালো বুদ্ধি দিবে এমন কেউ নাই।
তাই উল্টা পাল্টা ডিসিশনস নিয়ে পরে নিজেই ফেসে যেতে হয়।
ঘুমিয়ে ছিলাম,,সকালে রিমি ডেকে তুললো?
-- আসিফ উঠো এতক্ষন কেউ ঘুমায় নাকি?(রিমিকে খুব হাসি খুশি দেখাচ্ছে)
-- হুম উঠছি?
-- নাস্তা রেডি ৫ মিনিটের মধ্যে আসো?(রিমি চলে গেলো)
আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে যেতেই দেখি সবাই নাস্তার টেবিলে বসে আছে।আমার জন্য হয়ত অপেক্ষা করতেছে।এই পরিবারে কেউ কাউকে ফেলে খায় না।।আর আমাকে পরিবারের একজনই মনে করে।। আজ টেবিলে নতুন একজন খুব স্মার্ট।এটাই হয়ত রিমির মামাতো ভাই মানে রিমির হবু বর।
-- আসসালামু আলাইকুম,,(আংকেল আন্টিকে উদ্দেশ্যে)
-- আসিফ বসো,,?(আংকেল)
-- হুম? (চেয়ারে বসলাম)
-- পরিচয় করিয়ে দেই,,আসিফ এটা আমার ভাইয়ের ছেলে রিদয়।আর রিদয় এ হলো আসিফ।গাড়িতে যে ছেলেটার কথা বলছিলাম(আন্টি)
-- ভাইয়ের ছেলে কি বলো মেয়ের জামাই?(আংকেল উচ্চ হেসে)
আন্টিও মুচকি হাসছে,,আর রিমির মামাতো ভাই হয়তো কিছুটা লজ্জা পেয়েছে।কিন্তু রিমির মুখে অন্ধকার নেমে এসেছে।
-- কেমন আছেন ভাইয়া?(আমি)
-- হুম ভালো তুমি? (রিদয়)
--আলহামদুলিল্লাহ।
-- আব্বু তোমার কোন মেয়ের সাথে রিদয় ভাইয়ার বিয়ে?(রিমি)
-- আমার মেয়ে কয়টা?তর সাথেই বিয়ে?(আংকেল হেসে যাচ্ছে)
--আব্বু,ভাইয়া আসলো কাল আজই বিয়ে ঠিক করে ফেললা?আর আমাকে ত জানাতে পারতা?(রিমি মন খারাপ করে)
আমি কষ্ট করে হাসিমাখা মুখ করে বসে আছি।
-- আগে নাস্তা করো পরে সব কথা হবে?(আন্টির কথা সুনে খেতে শুরু করছে সবাই)
খাবার শেষ রুমে যাচ্ছিলাম,,,
--আসিফ এদিকে সুনো.।(আংকেল)
-- জ্বি আংকেল বলেন।(আমি)
-- আগামী সাপ্তাহে রিমির বিয়ে।। বিয়ের সব দায়ীত্ব কিন্তু তোমার। (আংকেল)
-- আচ্ছা আংকেল ঠিক আছে।(রিমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে)
হয়তো ভাবছে আমি কি করে হাসিমুখে কথা গুলো সুনছি। কিন্তু আমার ভিতর কি চলছে কি করে বুজবে রিমি?.আর রিমিকেও বুজতে দেওয়া যাবে না।,,,,
আমি রুমে চলে গেলাম,,,কিছুক্ষন পর রিমিও আসলো।,,
-- আসিফ আব্বু কি বলছে সুনছো? (রিমি মন খারাপ করে)
-- হুম, (ছোট করে উত্তর দিলাম)
-- হুম কি,ভেবেছো বলো,,?(রিমি)
-- কি ভাববো আংকেলের উপর কথা বলার সাহস কার আছে? আংকেল যা বলছে তাই হবে।(ভিতর ফেটে যাচ্ছিল তার পরও বাহির ঠিক রেখে বলছি)
-- মানে?আমাদের এত দিনের ভালোবাসার কি হবে?(রিমি রেগে গিয়ে)
-- যাই হয়ে যাক, আংকেল আন্টির মনে কষ্ট দিতে পারব না।আর পাত্র হিসেবে আমার থেকেও তোমার মামাতো ভাই অনেকগুন ভালো।তাছাড়া আমার শর্ত ছিল আংকেল আন্টি যা বলে তাই হবে।(কথা গুলো বলতে চোখের কোনে পানি জমে গেলো)
কারন আমিও ত রিমিকে ভালোবাসি,,অনেক ভালোবাসি। কিন্তু রিমির পরিবার থেকে বেশি নয়।
--অহ তাই? তুমি ভাবছো আব্বুকে বললে। আব্বু রাগ করে তোমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে।আর তোমার ভবিষ্যৎ বরবাদ।তোমার কাছে আমার ভালোবাসা কিছুই না।তোমাকে নিয়ে শত সপ্ন বোনা এই গুলোর কিছু মুল্য নেই?তুমি ত স্বার্থপর নিজের স্বার্থটাই খুজে বের করলে?(রিমি কান্না করছে আরর বলছে)
-- রিমি আমাকে ভুল বুজ না,,,তোমার ভালোবাসার থেকেও তোমার আব্বু আম্মুর ভালোবাসা হাজার গুন বেশি।এত ভালোবাসার মানুষ গুলোর মনে আমি কষ্ট দিতে পারবো না।এতে করে যদি আমি স্বার্থপর হই তাই ভালো। (চোখের পানি লুকিয়ে বললাম।)
জানি রিমি এগুলো সহ্য করতে পারছেনা।তবে খুব ভয় করছে রিমির যেই রাগ উল্টা পাল্টা কিছু না করে বসে।
-- বুজেছি,,তুমি ভয় পাচ্ছো।কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিনা।আমি তোমাকে চাই।যেকোনো মুল্যে।(রিমি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো)
না জানি আংকেল আন্টির কাছে এই কথা গুলো বলে দেয়।একদিক দিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর কষ্ট। আর আংকেল আন্টির মনে কষ্ট দেওয়ার ভয় আমাকে মেরে ফেলছে।
রিমির জন্য অই ছেলেটা বেস্ট।দেখতে খুবই স্মার্ট,,,,আর রিমি হয়ত সেখানে ভালোই থাকবে।
আর ভালোবাসার মানুষ টি ভালো থাকবে এটা হয়তো সবাই চায়।
সারাদিন রিমিকে মনমরা লাগছিল।হয়তো আংকেলকে বলতে গিয়েও বলতে পারেনি।তবে সুনেছি,,রিমি পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করতে চায় এমনটা বলেছিল।কিন্তু আংকেল বিয়ের পর পড়ালেখা চালানোর কথা বলে।।
এর মাঝে রিমির মামাতো ভাইয়ের সাথে কয়েকবার কথা হয়েছে।নিজেকে হাসি খুশি রাখার চেস্টা করেছি।।
রাতে আশা আসলো,
-- আসিফ কি সুনছি এইসব?(আশা)
-- সব কিছুই সত্য সুনছিস?(আমি)
-- তুই আর রিমি আংকেলের কাছে যা।সব কিছু খুলে বল।আংকেল ত তোকে অনেক ভালোবাসে কথা না রেখে পারবে না।(আশা)
-- আমাকে দিয়ে হবে না আশা।(আমি)
-- আচ্ছা আমাকেই কিছু করতে হবে?(আশা)
-- কি করবা?(অবাক হয়ে)
-- বিয়ে আটকাবো?(আশা মুচকি হেসে।এই হাসির রহস্য আমি জানি না।)
-- কি ভাবে?(আমি)
--দেখতে থাকো?(আশা রিমিকে খুজতে গেলো)
রিমিকে কিছুক্ষন আগে রুমে সুয়ে কাদতে দেখেছি।
আবার আমার রুমে,,রিমি,আশা,আর রিদয় ভাইয়া।মানে রিমির মামাতো ভাই।
-- ভাইয়া,,,আপনাদের একসাথে করেছি একটা গুরুত্বপুর্ন কথা বলার জন্য?(আশা রিদয় ভাইয়াকে বললো)
-- কি কথা বলো?(রিদয়)
-- ভাইয়া আপনি কি চান,,এই বিয়ের কারনে রিমি উল্টাপাল্টা কিছু করে বসুক?(আশা)
-- না কখনো না।কেন এই কথা বলছো?(রিদয়)
-- ভাইয়া দুই বছর ধরে আসিফ আরর রিমি একে অপরকে ভালোবাসে।আসিফের বর্তমান অবস্থান ত জানেনই আসিফ আংকেল কে কিছু বলতে পারবে না।আপনি কিছু একটা করুন প্লিজ(আশা)
-- বিয়ে ত ঠিক হয়ে গেছে আমি কি করতে পারি বলো?(রিদয় ভাইয়া মনে হচ্ছে নরম মনের মানুষ)
-- আপনি বিয়েটা ঠেকিয়ে দিন প্লিজ।দুটি মনের ভালোবাসা ভাংবেন না প্লিজ।(আশা)
-- তা না হয় আটকিয়ে দিলাম,,কিন্তু রিমির মত সুন্দরি মেয়ে আর পাবো কই?(রিদয় ভাইয়া)
-- কেন আমি ত আছি?(আশা কথাটা বলেই লজ্জায় জিহবা চেপে ধরলো)আশা আর রিমি সুন্দর আর গুনের দিক থেকে কেউ কারো থেকে কম নয়)
-- তুমি থাকলে আমি রাজি?(রিদয় ভাইয়া হেসে হেসে)
-- দুস্থ রাজি হয়ে যা প্লিজ।রিদয় ভাইয়া অনেক ভালো ছেলে।আর তোর ত কেউ নাই তাই না?(রিমির মুখে হাসি ফুটে উঠলো সাথে আমারও)
-- তাহলে তুই রাজি হয়ে যা?(আশা ফাইজলামি করে)
-- আমিত রাজিই আমার বেস্টু কে ভাবি বানাতে?(রিমি)
রিদয় ভাইয়ার একটা ডিশিসন একটি ভালোবাসা অটুট রইল।আর আশা ত অবাক করে দিয়েছে আমাকে। তবে রিদয় ভাইয়া বড় মনের মানুষ ভাবতেই হবে।আমার কাছে আশা আর রিদয় ভাইয়ার কেমিস্ট্রি অনেক ভালো হবে মনে হচ্ছে।কারন দুজন দুটি রাইট ডিশিসন দেখিয়েছে
এখন দেখার বিষয় হলো বিয়েটা আটকায় কিভাবে???রিদয় ভাইয়া কি পারবে আংকেল্কে বুজাতে???
দেখতে থাকুন শেষে কি হয়।আর গল্পের সাথে থেকে গল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
চলবে,,
পার্টটি একটু ছোট হতে পারে,,।কেউ রাগ করবেন না।সারাদিনে একটু একটু করে গল্পটি লিখেছি।কারন বেশিক্ষন মোবাইলে তাকিয়ে থাকতে পারছিনা।মাথায় ব্যথা হয়।
আশা করি সবাই আমার সমস্যাটা বুজতে পারবেন।আর গল্প দিতে দেরি কিংবা পার্ট ছোট হলে মানিয়ে নিবেন।ধন্যবাদ।



Wow
ReplyDelete